post_top_ad

বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কন্ঠের ভাষণেই জেগে উঠেছিল বাঙালি জাতি

ভয়েস ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান—বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—এ লাখো মানুষের সমাবেশে জাতির নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাক দেন।

সেদিন বজ্রকণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার লড়াইয়ের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পায়। এর পরপরই দেশের মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

৭ মার্চের ভাষণ পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বাঙালিকে এই ভাষণ নতুন উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে স্বাধীনতার আন্দোলন দ্রুত জনযুদ্ধে রূপ নেয় এবং দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৯৭১ সালের সেই সংগ্রামে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা পায় স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’।

ঐতিহাসিক এই ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিলই নয়, বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পরে ভাষণটি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ভাষণকে সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদের পঞ্চম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে জ্যাকব এফ. ফিল্ড সম্পাদিত আড়াই হাজার বছরের বিশ্বসেরা যুদ্ধকালীন ভাষণের সংকলন “We Shall Fight on the Beaches: The Speeches That Inspired History” গ্রন্থেও এই ভাষণ স্থান পায়।

দীর্ঘদিন ধরে ৭ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছিল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দিনটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা হয়। ২০২০ সালে সরকার দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০২১ সালে তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। পরে দিনটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনায়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একই বছরের ১৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাহী আদেশে দিবসটি বাতিল করে এবং সরকারি ছুটিও প্রত্যাহার করা হয়।

বর্তমানে সদ্য নির্বাচিত সরকার দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অতীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০২২ ও ২০২৩ সালে দলীয়ভাবে ৭ মার্চ পালন করেছে। বিভিন্ন সময় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও নিজ নিজ উদ্যোগে দিবসটি পালন করে এসেছে।

post_bottom_ad