বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ মনে করেন—শেখ হাসিনা যথাসময়ে মাথা উঁচু করে ফিরবেন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ মনে করেন—শেখ হাসিনা যথাসময়ে মাথা উঁচু করে ফিরবেন, বাংলাদেশ আবারও এগিয়ে যাবে ঐক্য, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার পথে।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিক, কবি ,সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের সংগঠন “স্মরণে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ” আয়োজিত আলোচনা সভা রবিবার (২৪ মে ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়।খবর আইবিএননিউজ ।
“বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার পাশাপাশি জনমত সৃষ্টি” শীর্ষক এ আলোচনা সভায় দৈনিক ইত্তেফাক এর সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র সাংবাদিক শফিক বাবু’র সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে সন্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিল্লী প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি ও প্রক্ষাত সাংবাদিক গৌতম লাহেডী,ওয়াসিংটন প্রেস করের সাংবাদিক ও মিডিয়া হোষ্ট দস্তগীর জাহাঙ্গীর,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিদ্দিকুর রহমান, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাসেম, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিরাজুল হক, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন কয়েছ,যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ৫ আগষ্টের পরে আমরা যারা দেশের বাহিরে চলে এসেছি, তাদের এখন দেশে যেতে হবে। সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, প্রয়োজনে জীবন দিবো কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার কিছু হতে দিবো না।
ডক্টর সিদ্দিকুর রহমান শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, আমরা জাতির জনককে হারিয়েছি, আপনার মা, ভাইদের হারিয়েছি,এখন আমরা আপনি ও আপনার ছোট বোনকে হারাতে চাই না। কারণ ২১ আগষ্ট যার নেতৃত্বে আপনার উপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো সেই এখন রাষ্ট্রের প্রধান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভারত আমাদের প্রধান বন্ধু রাষ্ট্র। তারা যদি মনে করে শেখ হাসিনা দেশে গেলে কোন ক্ষতি হবে না এবং তারা যদি এই গ্যারান্টি দেয় তাহলে আসতে কোন সমস্যা নেই।
ইতিহাসে এক নির্মম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এখন বাংলাদেশ। রাজনীতি যখন জনকল্যাণের পথ ছেড়ে ব্যক্তি-স্বার্থ আর ক্ষমতার খেলায় রূপ নেয়, তখন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিয়তি অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ কাসেম।
তিনি বলেন, মেটিকুলাস ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করা মহাজন ইউনুস এবং সাজানো পাতানো নির্বাচনে সান্ধ্য ভোটে ব্যাকডোর দিয়ে আসা ‘পার্সেন্টেজ ভাইয়া’ তারেক রহমান- এই দুই অশুভ শক্তির সমীকরণ আজ দেশকে এক চরম খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
এম এ কাসেম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে একজন সত্যিকারের বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন তা জনগণ এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে বুঝতে পারছেন। তাই তারা আর কোনো রকমের দ্বিধাদ্বন্দে না গিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন বিশ্বস্ত রাজনৈতিক নেত্রী মনে করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা অতি শিগগির বাংলাদেশের ফিরবেন বলেও তিনি জানান।
ইউনুস ও বর্তমান সরকারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এম এ কাসেম বলেন, সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা না হলেও, ক্ষমতার লোভ, রাষ্ট্র লুণ্ঠনের ক্ষুধা এবং বিদেশী প্রভুদের প্রতি দাসত্বের দিক থেকে তাদের রসায়ন যেন এক অবিকল্প ‘চাচা-ভাতিজা’র মেলবন্ধন! স্বভাবতই জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাদের পূর্ণ নজর কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের আখের গোছানোতে। এই দুই শাসকের অদূরদর্শী ও গণবিরোধী ভূমিকার কারণে আজ পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এক গভীর এবং বহুমাত্রিক সংকটে পর্যবসিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ডক্টর সিরাজুল হক বলেন, স্বাধীনতার শত্রুরা আমাদেরকে দুর্বল করার জন্য বলে বেড়াচ্ছে শেখ হাসিনা অসুস্থ, এটা একটা প্রপাগান্ডা। আপনারা সবাই সচেতন থাকবেন। নেত্রী আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং তিনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন।
তিনি বলেন, আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি নেত্রী আসবেন এই কথা সারা বিশ্ব জানুক। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা আসবেন।
ডক্টর সিরাজ বলেন, এই যে শেখ হাসিনা আসবেন এইটাই প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এই পশুদের রাজত্ব থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাঙালী জাতিটাকে বাঁচাতে হবে। বাঙালী জাতি কিন্তু শেখ হাসিনার সাথে আছে। কারণ শেখ হাসিনা গত সাড়ে পনের বছরে যে কাজগুলো করেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।
তিনি আরো বলেন, আমি জানিনা কে কখন আসবে, কতদিন থাকবে কিন্তু শেখ হাসিনার মতো রাষ্ট্রানায়ক আগামী একশো বছর এর মধ্যে বাংলাদেশে আর আসবে না। সুতরাং এখন আমাদের দরকার পুরো জাতিটাকে বাঁচানোর জন্য শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের হাল ধরুক এইটাই হোক আজকের একমাত্র প্রার্থনা।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, আজ বাংলাদেশের জনগণ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন—একদিকে অবহেলা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শিশু হত্যাকারী ‘খুনি ইউনূস, অপরদিকে বিশ্বনেতৃত্বে স্থান পাওয়া ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ইউনিসেফের সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করে ইউনূস পরিকল্পিতভাবে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আমেরিকার সাথে এক চুক্তির মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। আর সংসদে রাজাকার শক্তি পাকিস্তানের স্বার্থে এই চক্রান্তের নীরব সঙ্গী হয়ে আছে।
অপরদিকে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন যে দূরদর্শী ও সৎ নেতৃত্ব কীভাবে একটি দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করা যায়।
ইতিহাস কখনো অপরাধীকে ক্ষমা করে না, ইউনূসের এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিচার অবশ্যই এই বাংলার মাটিতে হবে উল্লেখ করে সৈয়দ ফারুক বলেন, আবারো দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাত ধরে এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা। বিশ্বের অনেক সিনিয়র নেতা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন শেখ হাসিনার মতো নেতা বিশ্বে একশো বছরের মধ্যে একজন আসে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জনগণ নির্ভরশীল একটি রাজনৈতিক দল। যেখানে জনগণের সুবিধা অসুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ নানা দেশে আওয়ামী লীগের কমিটি আছে। তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন। তারা সকলেই সংগঠিত ভাবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে যে যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখা এখন সময়ের ব্যপার মাত্র উল্লেখ করে সামাদ আজাদ আরো বলেন, যেভাবে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে তা কোন ভাবেই একটি সভ্য দেশে চলতে পারে না।
খুব দ্রুত এ সকল দেশ বিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে শ্রমিক, গরিব, দুঃখী, অসহায় লোকের পেটে ভাত নেই, পড়নে কাপড় নেই, শিশুদের চিকিৎসা নেই, বৃদ্ধরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তাদের কোন জ্ঞান নেই, অভিজ্ঞতা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনা করার মত একমাত্র যোগ্য ছিলেন জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মেধা, প্রগ্যা ও দূরদর্শিতা দিয়ে বিশ্বের সমস্ত মোড়ল দেশের সাথে টেক্কা দিয়ে গরিব একটি দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তর করেছিলেন।
ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন কয়েছ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মাথা উঁচু করে যথাসময়ে বাংলাদেশে ফিরবেন। যতই দিন যাচ্ছে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের লক্ষ কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন উল্লেখ করে দেলওয়ার হোসেন কয়েছ বলেন, বাংলাদেশকে জঙ্গিদের কবল থেকে বাঁচাতে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সকল শ্রেনী পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা তাঁর কথা অনুযায়ী যথাসময়ে বাংলাদেশে নিশ্চিতভাবেই ফিরছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক বজায় ছিল। নিকট ভবিষ্যতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে দুই দেশের সম্পর্ক আবারও ইতিবাচক ধারায় এগোবে বলে মনে করেন তিনি।
গৌতম লাহিড়ী আরও বলেন, ডক্টর ইউনুসের সময়ে বিভিন্ন কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অনেকটাই অবনতির দিকে গেছে। এদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভারত সরকার প্রথমদিকে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিলো, ভারত সরকার বারবার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নিয়ে আহ্বান জানানোর পরও তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইচ্ছেকৃতভাবে বিলম্ব করছে বলে দাবি করেন গৌতম লাহিড়ী। তাঁর মতে, বিষয়টিকে ভারত সন্দেহের চোখে দেখছে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমান পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। গৌতম লাহিড়ী জানান গঙ্গা চুক্তি নিয়েও বিএনপি সরকার টালবাহানা করছে।
তথাকথিত একজন জুলাই সন্ত্রাসী নারীদের একটি বিশেষ অঙ্গ নিয়ে যেভাবে অশ্লীল ভাষায় শ্লোগান দিয়ে পুরো সমাজকে অপমানিত করে, পরবর্তীতে সেই ব্যক্তিটিকেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে সমাধিস্থ করা হয় তখন এদেশ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন শেখ হাসিনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা শেখ হাসিনার প্রয়োজনীয়তা প্রতিটি মুহুর্তে অনুভব করছেন।
দস্তগীর জাহাঙ্গীর বলেন, শেখ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় রাখার যে পরিকল্পনা ছিলো তা ভারতের কুটনীতির কাছে পরাজিত হয়ে তথাকথিত একটা নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় ইউনুস সরকার।
ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা। ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মানিক লাল ঘোষ, সিনিয়র সাংবাদিক সাজেদা পারভীন সাজু, সাংবাদিক খন্দকার তারেক রায়হান, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম, সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, সাংবাদিক জিল্লুর রাসেল, সাংবাদিক এইচ এম দুলাল হোসেন, সাংবাদিক জালাল উদ্দীন, সাংবাদিক জহির উদ্দিন, সাংবাদিক আহমেদ রাসেল, আল আমিন ও সাংবাদিক মোজাফফর হোসেন প্রমুখ ।
আলোচনা সভার শুরুতেই বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বাহার উদ্দিন খেলনের সুস্থ্যতা কামনায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়। উল্লেখ্য, বাহার উদ্দিন খেলন এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো।
বাংলাদেশে বর্তমান অস্থিরতা ও প্রতিনিয়ত মানুষ হত্যা এবং টিকার অভাবে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যু নিয়ে মাঠে ময়দানে কাজ করা সাংবাদিক দীপান্বিতা রয় মার্টিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন – “আমরা আগেই ভালো ছিলাম” দেশের সার্বিক অসংগতী বা চলমান ঘটনা যা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যেমন রামিসার হত্যা, হামে শিশু মৃত্যু এ সব কিছু নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যা বুঝতে পারছি বা দেখেছি – তা আমার অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরছি – কখনও পুলিশ আমাদের সহযোগীতা করে কখনও করেনা॥ আবার কখনো চলে আসে ডিবি, যারা আমাদের কখনও কখনও চলে যেতে বলে॥ তবে সবচেয়ে ভালো দিক আমি পর্যবেক্ষন করেছি তা হলো – সাধারণ জনগন যেন আমাদের মাঝে তাদের কথাই খুঁজে পাচ্ছে। যা তারা বলতে চায় যেন সে কথাই আমরা বলেছি॥ তাই সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও রাস্তায় জনগনের আমাদের প্রতি অনেক সমর্থন পেয়েছি॥ সাধারণ মানুষের মাঝে ক্লান্তি টের পেলাম, একটা বিষয় উপলব্ধি করলাম আর তা হলো, তারা যেন বলতে চাইছে – আমরা আগেই ভালো ছিলাম॥
শেখ হাসিনার শাসনামলেই খুব ভালো ছিলাম – যা আগে বুঝতে পারিনি কিন্তু এখন প্রতি পদে পদে বুঝতে পারছি।সভার শুরুতে ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে “৬২, “৬৪ এর ৬ দফা, এগারো দফা শিক্ষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, “৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট স্বপরিবারে জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,২০০৪ এর ২১শে আগস্ট শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা , ১৯৭৫-এর ৩রা নভেম্বরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার নিস্ঠুর হত্যাকান্ড ,২০২৪ এর ৫ আগস্টসহ আজ পর্যন্ত স্বৈরাচার বিরোধী এবং সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মত্যাগী বীর এবং সম্ভ্রমহারা ২ লক্ষাধীক মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

