পঞ্চম মেয়াদে সিনেটর হওয়ার পথে শেখ রহমান
সিনেটর শেখ রহমান চন্দন জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে পঞ্চম মেয়াদে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান শেখ রহমান। গত চার মেয়াদের কর্মনিষ্ঠার পুরস্কার পেয়েছেন সিনেটর শেখ রহমান চন্দন ।কারণ মাসখানেক আগে একটি দুর্ঘটনায় পায়ে ব্যথা পাওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় তেমনভাবে অংশ নিতে পারেননি। এতদসত্বেও ভোটাররা ১৯ মের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে (প্রাইমারি) বিপুল বিজয় দেয়ায় সিনেটর শেখ রহমান চন্দন ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিশোরগঞ্জের জেলার বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে সন্তান শেখ রহমান চন্দন ২০১৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই ডিস্ট্রিক্ট-৫ এর সিনেটর হিসেবে বিজয়ী হন। রবিন ম্যাককয়কে হাজারের অধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন শেখ রহমান চন্দন ।
দুই বছর মেয়াদি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট হিসেবে পঞ্চম মেয়াদের জন্যও প্রার্থিতা পাওয়ায় সিনেটর শেখ রহমান চন্দন আইবিএননিউজ সংবাদদাতাকে বলেন, সততা, ন্যায়নিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে সবসময় চেষ্টা করি এলাকার মানুষের পাশে থাকার-এটাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। ভিন্ন ধর্ম এবং জাতি-গোষ্ঠির মানুষ হলেও এলাকার ভোটারেরা কখনোই তা ভাবতে চান না। কারণ আমি তাদেরকে সে সুযোগ কখনোই দিইনি। সবসময় তারা আমাকে তাদেরই একজন ভাবেন, যে কোনো প্রয়োজনে তারা আমাকে পাশে পাচ্ছেন। যতদিন সম্ভব এই চেতনা লালন করেই আমি এলাকাবাসীর কল্যাণে নিবেদিত থাকতে চাই।
উল্লেখ্য, আসছে ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত নির্বাচনের দিন। এলাকার ভোটারের সিংহভাগ ডেমোক্র্যাট হওয়ায় শেখ রহমান চন্দন বিজয় কেউই ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আরো উল্লেখ্য, চলতি চতুৃর্থ মেয়াদ শেষ হবে সামনের বছর ১১ জানুয়ারি। এরপর তাকে পঞ্চম মেয়াদের সিনেটর হিসেবে শপথ নিতে হবে। শেখ রহমান চন্দন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় পর্যায়ের নীতি-নির্ধারণেও অবদান রেখেছেন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের ক্যাম্পেইন টিমেরও সদস্য ছিলেন। এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেটে সরকার সম্পর্কিত তদারকি কমিটিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ট্যুরিজম, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ এবং নগর উন্নয়ন বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন।
এদিকে জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৭ এর সিনেটর নাবিলা ইসলাম পারকেস সিনেট ছেড়ে লেফট্যানেন্ট গভর্নর পদে প্রার্থী হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জর্জিয়ার রাজনীতিতে ঝড় উঠিয়েছিলেন। কারণ তিনি ছিলেন প্রথম মুসলমান নারী এবং কনিষ্ঠতম সিনেটর। নোয়াখালী থেকে আসা মা-বাবার কন্যা নাবিলা হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার মোর্চার (রিপাবলিকানরা যাদের সমাজতন্ত্রী হিসেবে গালি দেয় প্রকাশ্যে) অন্যতম একজন। সে কারণে তরুণ প্রজন্মের বিশাল ভোট ব্যাংক কাজে লাগিয়ে স্টেটের লেফট্যানেন্ট গভর্নর হয়ে
আরেকটি ইতিহাস গড়তে আগ্রহী নাবিলা। বিজয়ী হলে তিনিই হবেন এই স্টেটের প্রথম মুসলিম নারী যিনি পুরো স্টেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

