গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় পল্লী চিকিৎসকদের অবদান অপরিসীম, স্বীকৃতি ও নিয়োগের দাবি
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে পল্লী চিকিৎসকদের অবদানকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি স্বীকৃতি, প্রশিক্ষণ এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন পল্লী চিকিৎসক নেতারা।
বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি, কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে নতুন কমিটির পরিচিতি সভা, আলোচনা সভা এবং সাবেক সভাপতি মরহুম ডা. নুরউদ্দিনের স্মরণে দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ বিআরডিবি হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী চিকিৎসক মোনায়েম খান এবং সঞ্চালনা করেন পল্লী চিকিৎসক মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। গেস্ট অব অনার ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিয়াজ মাহমুদ, বিআরডিবি চেয়ারম্যান ও কমলগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছরওয়ার শোকরানা নান্না, বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসক সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি কেতকী রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পল্লী চিকিৎসক আজমত আলী, আনোয়ার হোসেন, এম এ গফুরসহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ অবস্থায় পল্লী চিকিৎসকরাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার উৎস হিসেবে কাজ করছেন।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসকরা গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্গম অঞ্চলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হলে পল্লী চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক সেবাই রোগীর জীবন রক্ষায় সহায়ক হয়।
আলোচনা সভায় পল্লী চিকিৎসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে চীনের ‘বেয়ারফুট ডক্টর’ মডেলের আদলে দেশে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করেছিলেন। সে সময় দেশের বিভিন্ন থানার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ২৭ হাজার ৫০০ পল্লী চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ পল্লী চিকিৎসকদের সরকারি স্বীকৃতি প্রদান এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য পল্লী চিকিৎসকদের দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানানো হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, ওষুধের অপব্যবহার ও ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি কমাতে পল্লী চিকিৎসকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং কার্যকর সরকারি তদারকি প্রয়োজন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ সহজে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে মরহুম ডা. নুরউদ্দিনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

